1. disenchakmabd@gmail.com : shijakco :

প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস

১. ভূমিকা:
বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার অন্যতম বাঘাইছড়ি উপজেলা। এই উপজেলায় বিগত ২০০০ ইং সালে এলাকার আপামর জনসাধারনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শিজক কলেজ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কলেজটি রাঙ্গামাটি জেলা শহর হতে প্রায় ১২০ কি: মি: এবং উপজেলা সদর হতে ১৮ কি: মি: দুরত্বে অবস্থিত। মূলত: ভৌগলিক দুর্গমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধার কারনে এই এলাকায় একটি কলেজ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য হয়ে পড়ে। এ কলেজ স্থাপনের আগে এই এলাকায় অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী মাধ্যমিক পাশের পর উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হন। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে অত্রাঞ্চলে দীর্ঘ দুই যুগের স্বশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটে এবং এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। পাহাড়ে শান্তির সুবাতাস বইতে থাকে, জনগণ আশায় বুক বাঁধে, নানামূখী উন্নয়নমূলক কাজে উদ্যোগী হয়। হতাশা ও ব্যর্থতায় গ্লানি পেছনে ফেলে এলাকার জনগন অত্রালাকায় বহু আকাংঙ্ক্ষিত শিজক কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
২. কলেজের নামকরণ:
মূলত: শিজক নদীর নামানুসারে শিজক কলেজের নামকরণ। এর অবস্থান ৩৮৪ নং সারোয়াতলী মৌজা, ৩০ নং সারোয়াতলী ইউনিয়ন, উপজেলা- বাঘাইছড়ি, জেলা- রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। প্রতিষ্ঠানের অবস্থান অক্ষাংশ ২৩.১০৪৬৭৪১ এবং দ্রাঘিমাংশ- ৯২.২২৮৮৫৫৭।
৩. কলেজ প্রতিষ্ঠিার তারিখ এবং প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উদ্যোক্তা/উদ্যোক্তাগণের নাম ও পরিচিতি:
২১.০৪.২০০০ খ্রি: সর্বপ্রথম শিজক কলেজ স্থাপনের জন্য শিজক মূখ উচ্চ বিদ্যালয়ে এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে এক সভা বাবু লক্ষী কুমার চাকমা ( সাবেক বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান, সাবেক প্রধান শিক্ষক, শিজক মূখ উচ্চ বিদ্যালয় এবং সারোয়তলী উচ্চ বিদ্যালয়) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এবং কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়।
অত:পর এলাকার সর্বস্তরের শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সহযোগীতা প্রদানে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসেন। তন্মধ্যে কলেজ স্থাপনের কাজে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগীতাকে সার্বিক সমন্বয় সাধন ও নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন বাবু তারাচরণ চাকমা (অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব), স্টোডিয়াম এলাকা, রাঙ্গামাটি, স্থায়ী ঠিকানা- সারোয়তলী, বাঘাইাছড়ি, রাঙ্গামাটি; বাবু অমূল্য রঞ্জন চাকমা( অবসরপ্রাপ্ত উপ-সচিব), চম্পক নগর, রাঙ্গামাটি, স্থায়ী ঠিকানা- শিজকমূখ, বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি; বাবু অনুনয় চাকমা, শিজকমূখ; বাবু বঙ্কিমচন্দ্র চাকমা, বটতলা; বাবু কপিলেশ্বর চাকমা, উলুছড়ি; বাবু সুবাস বসু চাকমা, উলুছড়ি; বাবু শুভলাল চাকমা, শিজকমূখ; বাবু সুশান্ত কুমার চাকমা, হেডম্যান, খেদারমারা মৌজা; বাবু প্রিয় নন্দ চাকমা, সাবেক চেয়াম্যান সারোয়াতলী ইউনিয়ন ; বাবু কেরোল চাকমা ( জ‍্যোতিময় ), হেডম‍্যান, বাঘাইছড়ি মৌজা ; বাবু লক্ষী কুমার চাকমা, সাবেক বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান, সাবেক প্রধান শিক্ষক, শিজক মূখ উচ্চ বিদ্যালয় এবং সারোয়তলী উচ্চ বিদ্যালয় ; বাবু উৎপলাক্ষ চাকমা (জীতেন বাবু), শিজকমূখ; বাবু সুমতি রঞ্জন চাকমা, শিজকমূখ, বাবু যতিন রায় চাকমা, দক্ষিণ সার্বোয়াতলী ; বাবু সুচিত্র চাকমা সাবেক চেয়ারম্যান খেদারমারা ইউনিয়ন সহ আরো অনেকে এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সময় হতে প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন বাবু নন্দ বিকাশ চাকমা ও বাবু সুভাষ দত্ত চাকমা।
এছাড়াও কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে উপদেষ্টা হিসেবে কলেজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বাবু কল্পরঞ্জন চাকমা ( তৎকালীন মন্ত্রী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়) তিনি কলেজ স্থাপনের শুরুতে ১৬০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণের জন্য ৪০ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন। এছাড়াও কলেজ স্থাপনের কাজে সার্বিক পরামর্শ ও আর্থিক সহযোগীতা প্রদান করেন শ্রী জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা), চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, রাঙ্গামাটি মহোদয়।
৪. কলেজ স্থাপন, পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি:
প্রস্তাবিত শিজক কলেজ স্থাপনের জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের উপ- কলেজ পরিদর্শক জনাব আবু তাহের ১০.০৯.২০০০ ইং সর্বপ্রথম সরেজমিন পরিদর্শন পূর্বক চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক শিজক কলেজ স্থাপনের অনুমতি প্রদান করা হয় এবং ২৭.০২.২০০১ ইং ২০০০-২০০১ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি এবং কলেজের প্রাথমিক স্বীকৃতিসহ পাঠদানের অনুমতি প্রদান করা হয়। অত:পর ০১.০৭.২০০৩ ইং তারিখ হতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক একাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
৫. পাঠদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার তারিখ:
১ জুলাই ২০০০ খ্রি: ( ২০০০-২০২১ শিক্ষাবর্ষ) হতে কলেজ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রাথমিকভাবে শিজকমূখ উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্ধিত ভবনে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়। শুরুতে ৭২ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়।
৬. প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন:
কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন বাবু জনালাল চাকমা, বিএসএস (অনার্স) এমএসএস (অর্থনীতি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এরপর ১৫.১০.২০০৪ ইং তিনি দায়িত্ব হতে অব্যাহতি প্রদান করলে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন বাবু সুভাষ দত্ত চাকমা, বিএসএস.(সম্মান), এমএসএস. ( রজনীতি বিজ্ঞান), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
৭. কলেজ সরকারি এমপিও ভূক্তি:
মে-২০১০ সালে কলেজটি প্রথম উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সরকারি এমপিও ভূক্তিকরণের সুযোগ লাভ করে। বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ৮ জন সহকারী অধ্যাপকসহ ২৬ জন শিক্ষক- কর্মচারী এমপিও ভূক্ত হিসেবে কর্মরত আসেন এবং সরকারি এমপিও ভূক্তির পর প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাবু সুভাষ দত্ত চাকমা, বি এস এস (অনার্স ) এম এস এস (রাজনীতি বিজ্ঞান ), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

৮. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্তিকরণ :
কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্তি কমিটির ৯৩ তম সভার সুপারিশ এবং একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সভার অনুমোদনক্রমে ২২.০৭.২০২৫ খ্রি: স্নাতক(পাশ) বিএ,বিএসএস শিক্ষা কার্যক্রমে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির প্রথম অধিভূক্তি লাভ করে। ফলে প্রত্যন্ত এলাকায় উচ্চ শিক্ষার সুযোগ আরো প্রসারিত হয়।
৯. অবকাঠামো:
বর্তমানে কলেজ ১৬০ ফুট লম্বা দ্বিতল পাকা ভবন ( একাডেমিক কাম প্রশাসনিক) এবং ICT সুবিধা সম্বলিত একটি চারতলা একাডেমিক ভবন রয়েছে। এছাড়াও একটি তিন তলা বিশিষ্ট শিক্ষক ডরমিটরী এবং ছাত্রদের জন্য একটি ছাত্রাবাস নির্মানাধীন। কলেজের রয়েছে খেলার মাঠ, পুকুর, বাগান, Multimedia Class Room সহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সুবিশাল ক্যাম্পাস।
১০. জমির পরিমাণ:
শুরুতে ২. ৪০ একর( দুই একর চল্লিশ শতক) পরিমান জায়গার উপর কলেজ স্থাপন করা হয় পরবর্তীতে জায়গা ক্রয় পূর্বক কলেজের জায়গার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে কলেজের জমির পরিমাণ ৪.৪৫ একর( চার একর পয়ঁতাল্লিশ শতক)
১১. কলেজের ভূমিদাতা:
কলেজ স্থাপনের জন্য শুরুতে কলেজের নামে জায়গা দান করেন বাবু আনন্দ মনি চাকমা, পিতা- ধনীরাম চাকমা, জায়গার পরিমাণ ১.৪০ একর ( হোল্ডিং নং- R ১৮১/(৪৫৮(ক) ) এবং ১। বাবু বিনোদ বরণ চাকমা ২। বাবু কনক বরণ চাকমা, উভয় পিতা- বৃষকেতু চাকমা, জমির পরিমাণ ১.০০ (এক) একর (হোল্ডিং নং- R ১৫৮/(২২৯(ক)) ) ৩৮০ নং সারোয়তলী মৌজা, উপজেলা- বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।

পরিশেষে বলা যায় পশ্চাৎপদ জনপদে উচ্চ শিক্ষার আলোক মশাল জ্বালিয়ে ভবিষ্যৎ যোগ্য নাগরিক সৃষ্টির মহান ব্রত নিয়ে প্রতিষ্ঠানের পদযাত্রা। এই লক্ষে প্রতিষ্ঠানটি শুরু হতে নানাবিধ প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিনিয়ত অগ্রসরমান। বর্তমানে এক ঝাঁক দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী এ লক্ষ্য সাধনে নিবেদিত প্রাণ। আশা করা যায়, সকলের সার্বিক সহযোগীতা ও আন্তরিকতায় এ প্রতিষ্ঠানটি আগামী দিনে কাংঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত আশাহীন মানুষের মাঝে বাতিঘর হিসেবে আলো ছড়াবে যুগের পর যুগ।

© All rights reserved © 2025
Design & Developed BY SA Creative Media